Published : 22 Feb 2026, 03:09 AM
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ব্যাংকসটাউন স্পোর্টস ক্লাবের ‘দ্য থিয়েটার’ প্রেক্ষাগৃহে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো একক সংগীত সন্ধ্যা ‘উড নাইট’। প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের সংগঠন ‘গানপোকা’র উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের মুখ্য শিল্পী ছিলেন সিডনির পরিচিত কণ্ঠশিল্পী এহসান আহমেদ। প্রায় পাঁচশো শ্রোতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সন্ধ্যা প্রবাসের সংস্কৃতিমনা বাঙালিদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।অনুষ্ঠানের শুরুতেই এহসান আহমেদ পরিবেশন করেন ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’ গানটি। তাঁর আবেগপূর্ণ এবং সাবলীল কণ্ঠ শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে তোলে। এরপর তিনি গেয়ে শোনান ‘লাগ যা গালে’, যা দর্শকদের এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়। বাংলা এবং উপমহাদেশীয় সংগীতের জনপ্রিয় গান দিয়ে সাজানো এই পরিবেশনা শুরু থেকেই দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখে। কনসার্টজুড়ে বিভিন্ন সময়ের কালজয়ী গানের সুর বাজানো হয়। একে একে শোনা যায় ‘আছেন আমার মুক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘গাঙ্গে ঢেউ খেলে যায়’ এবং ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’। প্রতিটি গানের আগে শিল্পী গানের প্রেক্ষাপট, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অথবা সেই সময়ের পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরেন, যা দর্শকদের সঙ্গে তাঁর এক নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করে এবং অনুষ্ঠানে এক আন্তরিকতাপূর্ণ আবহ নিয়ে আসে।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশনা ছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহ–কবাট’ গানটি।
তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠে এই গানটি পরিবেশিত হওয়ার সময় পুরো প্রেক্ষাগৃহে এক ভিন্ন আবেগ সৃষ্টি হয় এবং গান শেষে দীর্ঘ করতালি দিয়ে হল পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।এ ছাড়া তিনি ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ এবং ‘একদিন ছুটি হবে’ গানগুলোও গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। পরিচিত গানগুলোর সুরের সঙ্গে অনেকেই শিল্পীর সাথে গলা মেলান, কেউ নিচু স্বরে গানটি গায়, আবার কেউ করতালি দিয়ে শিল্পীকে উৎসাহিত করেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশনের সময় পুরো প্রেক্ষাগৃহে এক সম্মিলিত গানের আবহ তৈরি হয়।মঞ্চের পেছনের বড় স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের ছবি। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের ছবিসহ আরও কয়েকজন খ্যাতিমান শিল্পীর স্থিরচিত্র দর্শকদের ফেলে আসা দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। অনেকের মুখে তখন স্মৃতির ছাপ স্পষ্ট—যেন দেশ, পরিবার এবং শৈশবের কথা গানের সুরে সুরে ফিরে আসে।যন্ত্রসংগীতে ড্রাম ও পারকিউসনে সৈকত পল, লিড গিটারে সোহেল খান এবং বেজ গিটারে সোহেল আমিন ছিলেন। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আত্তাবুর রহমান। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি গান ছন্দোবদ্ধ এবং স্পষ্ট ছিল।
সাউন্ড মিক্সিংয়ের মান বেশ উন্নত ছিল এবং কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতের মধ্যে সুন্দর সামঞ্জস্য বজায় ছিল।আয়োজক কানিজ আহমেদের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি ছিল পরিপাটি ও গোছানো। সময়ানুবর্তিতা, মঞ্চসজ্জা এবং আলোকসজ্জায় ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। অতিরিক্ত চাকচিক্য পরিহার করে সংগীতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে পুরো আয়োজনে।অনুষ্ঠান শেষে দর্শকসারিতে বসা সিডনিপ্রবাসী জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা আবদুল্লাহ বলেন, ‘পুরোনো দিনের গানগুলো শুনে মনে হচ্ছিল যেন শৈশবে ফিরে গেছি। এহসানের গায়কী এবং মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি অসাধারণ। এমন গোছানো অনুষ্ঠান অনেক দিন দেখিনি।’প্রবাসের মাটিতে এই ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে না, বরং সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও দৃঢ় করে—এমনটাই মনে করেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য।।
অস্ট্রেলিয়ায় স্বপ্নদলের 'হেলেন কেলার': মানবিক সংগ্রামের এক অসাধারণ মঞ্চায়ন